Reading Time: < 1 minute

রোলারকোস্টার!

চরম গতি, তার সাথে ওজনহীনতার অনুভূতি, আর ভীষণ থ্রিল! রোলারকোস্টার ভয় পায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যেমন দুঃসাধ্য, ভয় পাওয়া সত্ত্বেও পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আরও দুঃসাধ্য!

এটুকু স্পষ্ট যে মহাকর্ষ, গতি আর ত্বরণ কাজ করে রোলারকোস্টারে। কিন্তু কীভাবে? একটা ছোট তথ্য দিয়ে শুরু করা যাক। রোলারকোস্টারের যে কোনো ইঞ্জিন নেই, তা কি জানো?

যান্ত্রিক শক্তি সংরক্ষণঃ

রোলারকোস্টারের রাইডের শুরুতে যে কোর্স থাকে, তা রোলারকোস্টারকে উপরে ওঠাতে থাকে। এই শুরুর অংশ এস্ক্যালেটরের মতো গঠনযুক্ত হতে পারে, চুম্বকযুক্ত হতে পারে, হাইড্রলিক পাম্পযুক্ত হতে পারে। যেভাবেই গঠিত হোক না কেন, এই অংশটির কাজ রোলারকোস্টারকে উপরে ওঠানো। রোলারকোস্টারকে উপরে ওঠানোর সময় রোলারকোস্টারে বিভবশক্তি জমা হতে থাকে। এরপর  নিচে পড়ার সময় এই বিভবশক্তির বেশ খানিকটা অংশ গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই কলজে কাঁপানো গতির উদ্ভব হয়। রোলারকোস্টারের পুরো চলার পথে বিভবশক্তি এবং গতিশক্তির যোগফল পদার্থবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী সমান থাকতে হবে।

অভিকর্ষজ ত্বরণ আর গতি জড়তাঃ

রোলারকোস্টার উপর থেকে নিচে নামার সময় অভিকর্ষজ ত্বরণ কাজ করে। এরপর আবার উপরে উঠতে পারে গতি জড়তার জন্য। তখন কিন্তু ত্বরণ অভিকর্ষজ ত্বরণের চেয়ে কমে যায়, আর তখনই ওজনহীনতা অনুভূত হয়।

লুপে ঘূর্ণনঃ

রোলারকোস্টারে চড়ার অন্যতম উত্তেজনাকর মুহূর্ত লুপে ঘূর্ণন। লুপে রোলারকোস্টার চড়ার সময় ত্বরণ খুব দ্রুত অভিকর্ষজ ত্বরণের চেয়ে বেড়ে যায়। ত্বরণ যাতে খুব বেশি না বাড়ে (সাধারণত সর্বোচ্চ ত্বরণ অভিকর্ষজ ত্বরণের চারগুণ পর্যন্ত রাখা হয়), সেজন্য বেশিরভাগ লুপের গঠন গোলাকার না হয়ে কিছুটা পানির ফোঁটার আকৃতির হয়। কিছু লুপ গোলাকার রাখলেও সেগুলো দেহের ভরকেন্দ্রের সাথে মিলিয়ে বানানো হয়, যাতে রক্ত সঞ্চালনের খুব একটা সমস্যা না হয়। দেখা যায়, রোলারকোস্টার যতই ভয়ংকর হোক না কেন, যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয় এতে। নিজেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চল, সাবধানে থাকো, তাহলে আবারও রোলারকোস্টারে চলার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে!