Reading Time: < 1 minute

বিশ্ববিখ্যাত গায়ক মাইকেল জ্যাকসনের ঘুমের সমস্যা ছিল (ক্রনিক ইনসমনিয়া)। তিনি ঘুমানোর জন্য প্রতি রাতে অ্যানেস্থেসিয়া নিতেন। কারণ অ্যানেস্থেসিয়া আর ঘুম তো কাছাকাছিই, তাই না? দুটোতেই মানুষ একইধরণের অজ্ঞান হয় তো!

এই ধারণাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর জন্য।

অ্যানেস্থেসিয়া আর ঘুম কি এক জিনিস?

এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আমাদের ঘুমকে আগে একটু বুঝে নেয়া দরকার।

দ্য স্লিপ সাইকেলঃ

ঘুমের শুরুটা হয় হালকা ঘুম দিয়ে। আস্তে আস্তে ঘুম গাঢ় হয়। গাঢ় ঘুমের সময় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতি আর নতুন কোষ গঠন শুরু হয়।

প্রায় ৯০ মিনিট পর ঘুম আবার হালকা হয়। কিন্তু এই স্তরটা প্রথম স্তরের মত না। এই স্তরে মস্তিষ্ক বিভিন্ন তথ্য পুনর্বিন্যাস করে। এই তথ্য পুনর্বিন্যাস করার সময় কিছু নয়েজ অর্ধসচেতন মনে এসে পৌঁছায়। এটাকেই আমরা স্বপ্ন বলি। (এজন্যই বেশিরভাগ স্বপ্নের কোন মানে হয় না, আবার কিছু স্বপ্নকে একদম বাস্তব মনে হয়।)এই পর্যায়ে আমরা বারবার চোখের পলক ফেলি। তাই এই স্তরকে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্টেজও বলে। এরপর আবার এই চক্রের পুনরাবৃত্তি হয়।

এটা এতক্ষণে নিশ্চয়ই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিভিন্ন ধরণের মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত কাজ করে। এজন্যই ঘুম এত গুরুত্বপূর্ন, নাহলে স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র।

অ্যানেস্থেসিয়া আসলে কীঃ

অ্যানেস্থেসিয়ার সময় ধীরে ধীরে পেশেন্টকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করা হয়। হালকা ঘুম আর র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট এর কোনো ব্যাপারই নেই এখানে। এদিক থেকে অ্যানেস্থেসিয়া ঘুমের চেয়ে কোমার সাথে বেশি তুলনীয়। অ্যানেস্থেসিয়ার আসলে খুবই সাবধানতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করা ক্ষণস্থায়ী কোমা!

একারণেই মাইকেল জ্যাকসন বেশিদিন অ্যানেস্থেসিয়া নিয়ে আসলে প্রকৃত ঘুম পাননি। আর এই ঘুমের অভাবই তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আশা করি এই লেখাটি পড়ে সবার মাঝে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব কিছুটা হলেও বাড়বে। ঘুমের অভাব প্রকৃত অর্থেই প্রাণঘাতী!

Source: “The Joy of X” Podcast by QuantaMagazine একটুখানি বিজ্ঞান- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

Get more articles Like this Here

Can check out this also