Reading Time: 2 minutes

আমাদের স্যার ডাকবা…?

মানব সমাজের মজার একটি ট্রল -“আমাকে স্যার ডাকবা”।কথাটার বদলে “আমাদের স্যার ডাকবা”এমন কথা কোনো এক পতঙ্গ সম্মেলনে যদি পিপীলিকা সমাজ সুউচ্চ স্বরে বলেই উঠে তাহলে কেমন হবে…?অবাক হচ্ছেন….?হওয়ারি কথা।কেননা মানব সমাজের বিখ্যাত এই ট্রল পিঁপড়েরা কেনো বলবে..?কিন্ত পিঁপড়ে সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার পর হয়তো আপনিও বলে উঠবেন তাদের এই দাবী অযৌক্তিক নয়।

সাধারণত চোখে দেখা যায় এমন প্রাণীকুল এর মধ্যে পিঁপড়ে খুব ছোট্ট একটা প্রাণী।তবে এদের আকার সর্বচ্চ ৬ সে.মি. পর্যন্ত হতে পারে।আকারে ছোট বলে আপনি একে অবজ্ঞা করতে পারবেন না। কেননা,দেহের মোট ওজনের ২০ গুন বেশি ভার সে বহন করতে পারে।এর সর্বোমোট প্রজাতি খুজতে গেলে প্রায় ১২ হাজার প্রজাতির সন্ধান আপনি পাবেন।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো,পতঙ্গদের মধ্যে তুলনামূলক সবচেয়ে বড় মস্তিষ্ক কিন্তু ছোট্ট এই প্রানীটির।প্রায় ২৫০০০০ টিরও বেশি কোষের অবস্থান এদের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে।ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক থাকা সত্ত্বেও এরা বেশ বুদ্ধিমান,কর্মঠ এবং পরিশ্রমী। পিপীলিকা পিপীলিকা

পিঁপড়েদের মস্তিষ্ক বড় হলেও এদের কোনো কান নেই।কান না থাকায় মজা করে এটা বলাই যায় যে,পড়ালেখায় ফাঁকিবাজির কারণে পিঁপড়ে পন্ডিতদের কান মলা আর ডারউইননের বিবর্তনাদ এর সমন্বয়ের জন্যই হয়তো তাদের এমন হাল।কান না থাকলেউ এদের পায়ে আর হাটুতে আছে এক ধরণের সেন্সরিং অরগান।যা দিয়ে পিঁপড়েরা শুনতে পারে এবং আশেপাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারে।অর্থাৎ, মজার ব্যাপার হলো,ছোট্ট এই প্রানীদের রয়েছে মূল্যবান হাটু। পিপীলিকা পিপীলিকা পিপীলিকা

অধিকাংশ পিঁপড়েদেরই আছে দুইটি চোখ।তাতে আছে কয়েকটি লেন্স।পিঁপড়েরা কখনোও ঘুমায় না।ঘুমাবেই বা কি করে এদের যে চোখের পাপড়িই নেই।তাই এরা ২৪ ঘন্টাই কর্মরত।মানব সমাজের কিছু অলস প্রাণীকে কয়েক মাসের ট্রেনিং এ পাঠানো যেতেই পারে পিঁপড়ে রাজ্যে।

এদের ফুসফুস বা ফুলকা নেই।দেহে অবস্থিত অসংখ্য ছিদ্রের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া অব্যাহত রাখে।পিঁপড়েদের পাকস্থলী দুইটা।একটিতে খাবার হজম হয় আর অন্যটিতে খাবার জমা করে রাখে।

পিঁপড়েরা সামাজিক প্রাণী।সামাজিক নানান রীতি-নিতির মধ্য দিয়েই তাদের জীবন অতিবাহিত হয়।আর এই সমাজ পরিচালনার জন্য থাকে একটি রাণী পিঁপড়ে।রাণী পিপড়ে এবং সাধারণ পিঁপড়ের পার্থক্য ডানায়।অর্থাৎ রাণী পিঁপড়ের ডানা থাকে।সাধারণের তা থাকে না।সাধারণ পিঁপড়ে ২৮ বছর বাঁচলেও,রাণী পিঁপড়ে বাঁচে ৩০ বছর।একটি রাণী পিঁপড়ে প্রায় লক্ষাধিক বাচ্চার জন্ম দেয়।

পিঁপড়ে সাধারণত যৌন জনন প্রক্রিয়ায় প্রজনন ঘটায়।তবে কিছু প্রজাতি অযৌনজনন এ ভূমিকা রাখে।বিশেষ এক ধরনের ক্লোনিং মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া ঘটে।এক্ষেত্রে নিষিক্ত ডিম থাকে নারী দেহে আর অনিষিক্ত ডিম থাকে পুরুষের দেহে।

আত্মরক্ষার জন্য পিঁপড়েদের রয়েছে বিষাক্ত রস।এছাড়া আমাজন এর কিছু পিঁপড়ে আত্মরক্ষার জন্য ফরমিক এসিড ছুড়ে মারে।পিঁপড়েরা পানির নিচে ২৪ ঘন্টা ডুুবে থাকতে পারে।তাই বন্যায় এদের সাধারণত মৃত্যু হয় না।মৃত্যুর আগে এরা তাদের পদচিহ্ন রেখে যায় অর্থাৎ মৃত পিঁপড়ে এক ধরণের রাসায়নিক ক্ষরণ করে যার দ্বারা অন্যান্য পিঁপড়ে বুঝতে পারে।এই রাসায়নিক অন্যান্য পিপড়ের জন্য ভয়াবহ। কেননা,এর প্রভাবে অন্য পিঁপড়ে মারা যেতে পারে।এরা যে লড়াই করে না তা না।এদের লড়াই একবার শুরু হলে তা মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে।

উপনিবেশ সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা তার চাইতে পিঁপড়ের ধারণা অধিক বলা যেতেই পারে।কেননা,সবচেয়ে বড় উপনিবেশ এরাই তৈরী করতে পারে।ধারণা করা হয় পিঁপড়ে দের করা সবচেয়ে বড় উপনিবেশ ছিল প্রায় ৩৬০০ মাইল।এই উপনিবেশ ইতালি,ফ্রান্স,স্পেন এর মতো বড় বড় দেশ গুলোর উপর দিয়ে গিয়েছে।আর এটি শুরু করেছিল ফুটবল এর দেশ আর্জেন্টাইন পিঁপড়ে প্রজাতি।

স্রষ্টার এক বিশ্বয় সৃষ্টি এই পিঁপড়ে সম্প্রদায়। শৃঙ্খলা আর আনুগত্যের বিশাল এর উদাহরণ হতেই পারে আকারে ছোট এই প্রাণীকুল।এরা সারিবদ্ধভাবে চলাচল করে চলার পথে ফেরমন নিঃসরন করে।যা পিছনের থাকা পিঁপড়ে দের পথ দেখায়।একটি পিঁপড়ের ওজন এতটাই হালকা যে কোনো পিঁপড়েকে প্লেন থেকে ফেলে দিলেও এরা সামান্য ব্যাথা পায় না।তবে আশ্চর্যজনক কথা হলো,এদের সংখ্যা এতোটাই যে- পৃথিবীরর সমস্ত মানুষের ওজন আর সমস্ত পিঁপড়ের ওজন প্রায় সমান।

এরা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী যে,পবিত্র কোরঅান মাজীদে “নমলঅর্থাৎ পিঁপড়ে” নামে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে।এছাড়াও পবিত্র বাইবেল এ বলা হয়েছে পিঁপড়ে দের থেকে পরিশ্রমী হউয়ার শিক্ষা নিতে।

বিস্তারিত জানার পর কি মনে হচ্ছে…?পিঁপড়ে প্রজাতি কিন্তু পতঙ্গ সম্মেলনে প্রেস কনফারেন্স ডেকে বলতেই পারে….”আমাদের স্যার ডাকবা।”

Get more articles Like this Here

Can check out this also