Reading Time: 2 minutes

এক রাজা তার বিছানায় শুয়ে জীবন যাত্রার শেষ গন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ তার কক্ষে রাজপুত্র
আসলো। রাজপুত্রকে দেখে রাজা বলল “আমার সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে কিছুদিন পর এই রাজ্যের রাজা হবা
তুমি”
এটি শুনে রাজপুত্র বলল “বাবা এই রাজ্য পেয়ে কি লাভ। একদিন তো আমাকে এইসব ছেড়ে চলে যেতে হবে
তাহলে এত কষ্ট করে রাজ্যের সেবা কেন করব”
রাজা তার পুত্রের কথা শুনে একটুও অবাক না হয় তাকে কক্ষের বারান্দায় নিয়ে গেল।
রাজা :
ওই দেখো আকাশ একটি তারা টিপটিপ করছে। ওটাকে বলা হয় পোলারিস । সপ্তর্ষি তারামণ্ডলের একটি তারা
যার অবস্থান সবসময় উত্তর মেরুতে। এই তারাটি আমাদের সূর্যের মতো উদয় হয় না ,অস্ত যায় না। সব সময়
উত্তর মেরুতে অটল থাকে। নিজ অবস্থানে অটল থাকে এবং অন্যান্য তারার মত স্থান পরিবর্তন করে না বলে একে
ধ্রুবতারার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধ্রুবতারার মুকুট সে সারাজীবন পরে থাকতে পারবে না। আজ থেকে
১২০০০ বছর পর তার মুকুট ভেগা নামের অন্য একটি তারাকে পরিয়ে নিজের স্থান ছেড়ে দিতে হবে।
রাজপুত্র:
কেন? আজ থেকে ১২০০০ বছর পর কেন?
রাজা:
প্রতি ২৬০০০ বছর পরপর ধ্রুবতারা পরিবর্তন হয়। সেই ২৬০০০ বছরের আর ১২০০০ বছর বাকি আছে
পোলারিসের ।এর জন্য পৃথিবীর “processional motion” দায়ী। মহাশূন্যে পৃথিবীর উপর যে শুধু সূর্যের
মধ্যাকর্ষণের প্রভাব তা নয়, চাঁদেরও প্রভাব রয়েছে। চাঁদ আকারে অনেক ছোট হলেও আমাদের অনেক কাছের।
তাই চাঁদের মধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং সূর্যের মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে একটি অসম মধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর উপর
কাজ করে যার কারণে পৃথিবী লাটিমের মতন নড়বড় করতে থাকে। অর্থাৎ পৃথিবীর নিজ ঘূর্ণন অক্ষ প্রতি
২৬০০০ বছর পরপর একটি ঘূর্ণন পূরণ করে। এই “processional motion” এর কারণে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু এক
এক সময় এক তারার দিকে তাক করে থাকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় দরকার এবং তারা গুলো
আমাদের থেকে অনেক দূরে তাই পৃথিবীর উত্তর মেরুর তারার অবস্থান একটু পরিবর্তন হলে আমরা পার্থক্য
অনুভব করতে পারিনা কিন্তু প্রকৃত ২৬০০০ বছর পর পার্থক্যটা এতই বেশি হয় যে আমরা লক্ষ করতে পারি।
আজ থেকে ১২০০০ বছর পর পৃথিবীর উত্তর মেরু আর পলারিসের দিকে তাক করে থাকবে না পৃথিবীর উত্তর
মেরু “processional motion” এর কারণে ভেগা নামের তারার দিকে তাক করে থাকবে এবং এটিই হবে আমাদের
নতুন ধ্রুবতারা।
রাজপুত্র:
তাহলে এখনকার ধ্রুবতারা একদিনে তার সব মর্যাদা হারাবে?
রাজা:
ঠিক একদিনে হারাবে না পলারিস যতদিন তার ধ্রুবতারার মুকুট মাথায় রেখে ছিল সে তার দায়িত্ব অনেক
ভালোভাবে পালন করেছে। ধ্রুবতারা জ্যোতির্বিদ্যার অনেক গবেষণা ও হিসেবে অনেক সাহায্য করেছে।

এটি যেহেতু নিজ স্থান অটল থাকে তাই খ গোলকের জ্যামিতিতে এর অবদান অনেক। তাছাড়া আগের কালের
কোন স্থানের ল্যাটিটিউড জানতে হলে দিগন্ত থেকে পলারিসের উচ্চতা পরিমাপ করে জানা যেত কেননা কোন
স্থানের দিগন্ত থেকে পলারিসের অল্টিটিউড বা উচ্চতা হল ওই স্থানের ল্যাটিটিউড। তাছাড়া নাবিক বা
ভ্রমণকারীরা দিক চেনার জন্য পোলারিসের সাহায্য নিত কারণ যেই দিকে পোলারিস সেই দিকেই উত্তর।
এ পৃথিবীতে কোন কিছু বা কেউ চিরতরের জন্য স্থায়ী নয়। যার আগমন আছে তার বিদায় অবশ্যই আছে । তবে
এই বিদায়ের কথা শুনে হতাশ হলে চলবে না। বিদায়ের আগে আমাদের এমন কিছু করে যেতে হবে যাতে বিদায়
হওয়ার পরেও আমরা স্মরণীয় থাকি।
কথা শুনতে শুনতে রাজপুত্র তার ছোট্ট একটি ঘোড়া নিয়ে আর এক বস্তা চাল নিয়ে চলে গেল প্রজাদের কাছে ।
যাওয়ার আগে মাকে বলে গেল
“অমর হবার প্রস্তুতি নিচ্ছি”